আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। বিজ্ঞানী লুইপাস্তুর আবিষ্কার করেছিলেন জলাতঙ্কের টিকা, যার মাধ্যমে রোগটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যু দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- জলাতঙ্ক নির্মূলে টিকাদানই মুখ্য।
র্যাবিস বা জলাতঙ্ক হচ্ছে ভাইরাস গঠিত একটি রোগ যা সাধারণত কুকুর, শেয়াল, বাদুর প্রভৃতি উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। এটি এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীতে লালা বা রক্তের দ্বারা পরিবাহিত হতে পারে। এখনও বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে ১ জন ও বছরে ৫৫ হাজার মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে।
ঘাতক ব্যাধি জলাতঙ্কের প্রধান বাহক কুকুর। এ ছাড়া বিড়াল, বেজি ও শিয়ালের আঁচড়-কামড়েও এ রোগ হতে পারে। শত বছর ধরেও কুকুর মেরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কুকুরকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কুকুরকে টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এখনও বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে ১ জন ও বছরে ৫৫ হাজার মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। আর বাংলাদেশে প্রতিবছর মারা যায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারি তথ্য মতে; প্রতি বছর দেশে তিন থেকে চার লাখ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়। অন্যদিকে, দেশে মোট কুকুরের ৮৩ শতাংশ মালিকানাবিহীন।
কুকুরকে জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ করতে বিশ্বব্যাপী জলাতঙ্ক নির্মূলে ‘মাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ বা ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। কোনো এলাকার ৭০ ভাগ কুকুরকে টিকা দিলে ওই এলাকার কুকুরের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। তিন বছরে তিন রাউন্ড টিকা দিলে কুকুর থেকে মানুষ বা কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীতে জলাতঙ্ক সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।।
জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে কুকুরে কাউকে কামড় দিলে সাতটি ইনজেকশন দেওয়া হতো। এখন মাত্র তিনটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের ৩৫ জেলায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৫টি কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতে কুকুরকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে জলাতঙ্ক নির্মূলের পথে দেশ এগিয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুর কামড়জনিত জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়তে হবে। বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় সর্বোচ্চ।
আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে জলাতঙ্কের যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে :
- ক্ষততে ব্যথা বা চুলকানি
- জ্বর
- ২-৪ দিনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যাথা
- জলাতঙ্ক (জল থেকে ভয়)
- উজ্জ্বল আলো বা কোলাহলে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা
- অমূলপ্রত্যক্ষ (হ্যালুসিনেশন)
- আচরণগত পরিবর্তন
গৃহপালিত পশুপ্রেমীদের জন্য টিপস :
- গৃহপালিতপশুদের টিকাকরণ করান
- জলাতঙ্ক বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা, বিশেষ করে বাচ্চাদের মধ্যে।
- অকারণে পশুদের মধ্যে অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকা এড়িয়ে চলুন।
- রাস্তার কুকুর ও পোষা কুকুর সবারই টিকাকরণ করানো প্রয়োজন।
- যাঁরা কুকুর ধরেন, মেডিক্যাল বা প্যারা মেডিক্যাল স্টাফ এঁদের মধ্যে জলাতঙ্কের সম্ভাবনা বেশী থাকে।
- পশু কামড়ালে জলাতঙ্কবিরোধী টিকার জন্য সত্বর ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- কোনো কারণে আপনার গৃহপালিত পশুর টিকাকরণ করানো হয়নি কিন্তু ঐ পশুটি আপনাকে কামড়ালে বা আঁচড়ালে অতি সত্বর ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।