এই ব্যস্ততার জীবনে প্রতিদিনই আমাদের
কম্পিউটার, মোবাইল বা অন্যকোন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে হয় কোনো না কোনো কাজে বা
অকাজে এবং আমাদের অজান্তেই আমরা শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখের অনেক ক্ষতি
করে ফেলি। এছাড়া কম্পিউটারই যাদের জীবন-মরণ অর্থাৎ কোডার/ প্রোগ্রামার, গেমার, ফ্রিল্যান্সার
তাদের দিনের বেশির ভাগ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকতে হয়। বিশ্বে বর্তমানে সফটওয়্যার, টেকনোলজি
ভিত্তিক কর্মকান্ড ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে কোডার/ প্রোগ্রামার।
সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করা এই মানুষগুলোর চোখের নানা রকম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে
যেমন, কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম বা ডিজিটাল আই স্ট্রেইন। এর ফলে চোখের ক্ষতি তো হয় বটেই, নিজেকেও
পড়তে হয় অস্বস্তির মধ্যে। চলুন দেখে আসি তা থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং চোখকে সুরক্ষা
দিতে একজন কোডার, গেমার কিংবা ফ্রিল্যান্সারদের কিছু করনীয় বিষয়াবলী।
নিয়মিত চোখের পরীক্ষাঃ যারা
নিয়মিত স্ক্রিনের সামনে কাজ করেন তাদের নিয়মিত চোখের চিকিৎসকের কাছে যেয়ে চোখের পরীক্ষা
করা প্রয়োজন। চোখে বা মাথায় ব্যথা অনুভব করলে চোখের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। অনেকে
চোখ বা মাথা ব্যাথাকে এড়িয়ে যান যা পরবর্তিতে তাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে চোখের যে কোনো ধরনের সমস্যা আগে থেকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
কর্মক্ষেত্রে আলোর ব্যবস্থাঃ খেয়াল
রাখতে হবে যেখানে কাজ করা হয় সেখানে যেনো পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে। কম আলো বা অন্ধকার
ঘরে কম্পিউটার স্ক্রিনে কাজ করা মারাত্মক ক্ষতিকারক। চেষ্টা করতে হবে প্রাকৃতিক আলো
পাওয়া যায় এমন স্থানেই কাজ করতে। তাছাড়া জানালার একদম মুখোমুখি বা একদম পিছে না থেকে
জানালার পাশে কাজ করা অধিক উপযুক্ত হবে। যদি কৃত্তিম বাতি ব্যবহার করা হয় ঘরে, তাহলে
সে আলো যাতে স্ক্রিনে প্রতিফলন না করে সেদিক বিবেচনা করে কম্পিউটার স্ক্রিন বসাতে হবে।
বাল্ব বাতির বদলে টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করা উত্তম।
স্ক্রিনের সাথে সমন্বয়তাঃ কম্পিউটার
স্ক্রিন বা অন্যান্য স্ক্রিনের খুব কাছ থেকে কাজ করা যাবেনা। অন্তত ১৬-৩০ ইঞ্চি দূরত্ব
থেকে এবং স্ক্রিনের দিকে কিছুটা নিম্নগামী দৃষ্টি থাকলে বিভিন্ন রকম ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
তাছাড়া কম্পিউটার এর জন্য এন্টি-গ্ল্যায়ার গ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে, এর মাধ্যমেও
ক্ষতির পরিমান হ্রাস করা সম্ভব হয়। স্ক্রিনে কাজ করার জন্য কিছু চশমা কম্পিউটেড রিডিং
গ্লাসেস রয়েছে যা একজন কোডার ব্যবহার করে তার চোখকে সুরক্ষা দিতে পারবে।
চোখের পলকঃ একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে
মিনিটে ১৮-২০ বার চোখের পলক ফেলে। ভাবতে পারেন চোখের পলকের সাথে চোখের সুরক্ষার কী
সম্পর্ক। আপনি যখন স্ক্রিনে কাজ করেন তখন ধীরে ধীরে চোখের পলকের হার কমতে থাকে। যার
ফলে চোখ শুকনো হয়ে যায় এবং চোখ ক্লান্ত হয়ে যায় যা চোখের জন্য ক্ষতিকারক। তাই স্ক্রিনে
কাজ করার সময় চোখের পলক ঘন ঘন ফেলতে হবে। এতে করে কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া সম্ভব।
ফর্মুলা ২০/২০/২০ : স্ক্রিনে অনেক বেশি কাজ করার ফলে চোখে চাপ পড়ে অনেক।
চোখের আরাম দেয়ার ২০/২০/২০ নামে একটি ফর্মুলা আছে। প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দুরুত্বে
অবস্থিত কোনো বস্তু দেখার পর ২০ সেকেন্ড করে বিরতি নিতে হবে। এভাবে চোখের একটি ভালো
ব্যায়াম হবে এবং চোখের কোনো ব্যথা অনুভব করলে তা অনেকাংশে ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া চোখের
দৃষ্টি কিংবা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চোখের কিছু ব্যায়াম রয়েছে। এই লিংকে কিছু চোখের
ব্যায়ামের ভিডিও দেয়া হলোঃ https://www.youtube.com/watch?v=QQ3ki1dCcnw
প্রাকৃতিক কিছু পন্থাঃ চোখের আরামের জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
এর মধ্যে রয়েছে ল্যাভেন্ডার এবং লবঙ্গের তেল। পাশাপাশি টি ব্যাগ, শশা, টমেটো এগুলোও
চোখের আরামের জন্য কাজ করে থাকে। আর এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো অত্যন্ত সহজলভ্য যা আমরা
আমাদের ঘরেই পেয়ে থাকি।
চোখের সুরক্ষার চিন্তা শুধুমাত্র কোডার
কিংবা গেমাররাই করবে এমনটি নয়। আমরা সকলেই মোবাইল স্ক্রিন, কম্পিউটার স্ক্রিনের সাথে
এতো বেশি জড়িয়ে গিয়েছি যে আমাদের সকলের চোখের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই এই পন্থাগুলো শুধুমাত্র
কোডার/প্রোগ্রামারের জন্য এমনটি নয় আমারা সকলেই নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে চোখের
ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারবো।