করোনা ভাইরাস আক্রান্তে ঘরোয়া যত্ন | কী করবেন আর কী করবেন না?  Banner Photo

Ω author: Hasnat Zahan Shapla

 139  3  0

ক্রমশই বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের মাঝে আতঙ্ক। তবে সমগ্র পৃথিবী তথা দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর প্রদত্ত তথ্য মতে, covid-19 রোগের প্রাথমিক লক্ষণ গুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, শুকনো কাশি এবং ক্লান্তি বোধ হওয়া। কখনো কখনো এর সাথে যুক্ত হতে পারে সর্দি, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা এবং ডায়রিয়া। পরিস্থিতি জটিল হলে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়।তবে কখনো কখনো কিছু লোক সংক্রমিত হলেও তাদের মাঝে ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না এবং এরাই রোগটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি বিপদজনক। করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত আশি শতাংশ রোগী কোন বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে ওঠেন । কারণ অনেক সময়ই সুস্থ শরীর এ রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু অসুস্থ শরীরে এ ভাইরাস রোগ দ্রুত ছড়ায় ও বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করে। প্রতি ছয়জনের একজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ভোগেন। বিশেষত যারা প্রবীণ এবং যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি সংক্রান্ত রোগ আছে তাদের অবস্থা বেশি গুরুতর হয় ও অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। 

এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো প্রতিষেধক ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তাই আপনার শরীরের ভাইরাসটিকে সরাসরি মেরে ফেলার কোন উপায় নেই। বরং আপনার মধ্যে এ রোগের যে উপসর্গগুলো দেখা যাবে সে অনুযায়ী ডাক্তার আপনাকে চিকিৎসা দেবেন অর্থাৎ ঔষধের মাধ্যমে উপসর্গগুলো কমানোর চেষ্টা করা হবে। যদি আপনার মাঝে covid-19 এর লক্ষণগুলো দেখা যায় তাহলে আইইডিসিআর এর হেল্প লাইন নাম্বারে ফোন করুন। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন করোনা হটলাইন নাম্বার (১৬২৬৩, ৩৩৩ ইত্যাদি)। আক্রান্ত হলেই প্রথমেই আপনাকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে । আইসোলেশন অর্থ হচ্ছে একজন অসুস্থ রোগীকে সুস্থ মানুষদের থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা প্রদান। এক্ষেত্রে যদি চিকিৎসক মনে করেন আপনার লক্ষণগুলো মৃদু,, সে ক্ষেত্রে আপনাকে হোম আইসোলেশন এর পরামর্শ ও দিতে পারেন। হোম আইসোলেশন এর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন।

    • নিজেকে পুরোপুরি একঘরে করে ফেলুন। সম্ভব হলে নিজের জন্য পৃথক বাথরুম ব্যবহার করুন। নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন- তোয়ালে, গামছা, প্লেট, গ্লাস, কোন কিছুই কারো সাথে শেয়ার করবেন না। বাড়ির অন্যদের থেকে পুরোপুরি আলাদা থাকুন। ঘর-বাড়ি সবসময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।
    • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। আপনার হাত, মুখসহ সমস্ত শরীর সব সময় পরিষ্কার রাখুন। হাত দিয়ে চোখ ডলা, দাঁত দিয়ে নখ কাটা, নাক খোঁটার মত বদঅভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন। অর্থাৎ অকারণে কখনোই আপনার হাত মুখমন্ডলে লাগাবেন না। এছাড়া খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার  করুন। হাঁচি-কাশির সময় পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করুন।
    • পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। বেশি বেশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, দুধ,  খুব ভালো ভাবে সুসিদ্ধ মাংস এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন। অর্থাৎ যে ধরনের খাবারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় সে ধরনের খাবার গ্রহন করতে হবে।
    • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন অর্থাৎ আপনার শরীরকে সর্বদাই হাইড্রেটেড রাখুন।
    • আইসোলেশন এ থাকা অবস্থায় একেবারেই ঘর থেকে বাইরে যাবেন না। এ সময় আপনার প্রচুর বিশ্রাম প্রয়োজন । তাই নিজেকে বিশ্রামে রাখুন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।
    • এ সময় কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন না। আপনার ঘরে কোন দর্শনার্থীকে আসার অনুমতি দেবেন না।
    • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ কিংবা আপনার উপসর্গ অনুযায়ী উপসর্গগুলোকে কমানোর জন্য ঔষধ ব্যবহার করুন।

 

  • হোম আইসোলেশন এ থাকলেও সর্বদাই একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখুন। আপনার এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীর/সেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং তাকে আগেই আপনার সম্পর্কে জানান। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন আপনার পূর্বের কোন রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা, ফুসফুসের কোন রোগ আছে কিনা সে সকল তথ্য লিপিবদ্ধ করুন ও দিয়ে রাখুন। এতে করে যে কোন জরুরী মুহূর্তে আপনাকে পর্যাপ্ত সেবা প্রদান করা তাদের জন্য সহজ হবে। এছাড়া আগে থেকে যোগাযোগ করলে আপনাকে দ্রুত জরুরী স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হবে এবং ভাইরাস বা অন্য যেকোন সংক্রমনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
  • স্থানীয় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নির্দেশাবলী মেনে চলুন

 

  • হালকা কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন।
  • কোন অবস্থাতেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না । নিজেকে শান্ত রাখুন।
  • সব সময় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন এবং তাঁর কাছে সাহায্য চান।

 

 যা করবেন নাঃ

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, 2019-nCOV যেহেতু একটি ভাইরাস তাই এটিকে অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে দমন করা সম্ভব নয়। তবে যদি আপনার ইনফেকশনের কারণ ভাইরাস ছাড়াও আরো কোন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সমন্বিতভাবে হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দিতে পারেন তাই কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত কোন অ্যান্টিবায়োটিক নয়।
  • কোন অবস্থাতেই ধূমপান করবেন না
  • সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করুন যাতে অন্যদের এ রোগ ছড়িয়ে না পারে তবে একাধিক মাস্ক ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।

যেহেতু এ রোগটি ভাইরাসজনিত এবং এর কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি তাই আপনার পর্যাপ্ত সচেতনতা এবং পূর্বপ্রস্তুতিই পারে এ রোগের মারাত্মক জটিলতা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।

Share On Facebook

please login to review this blog and to leave a comment.


More From Hia

কোন শারীরিক সমস্যায় কোন ডাক্তার? || পর্ব #০১

published on: 01 Jun, 2021

প্রথমবারের মত ...

 33850    4    0 
ডেঙ্গুঃ কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ!

published on: 21 Jul, 2019

এই বর্ষায় বৃষ্টির সাথেখিচুড়ি তাে উপভােগ করবেনই, তবে আপনারা যাতে সুস্থতার সাথেতা করতে পারেন তাইগুরুত্বপূর্ণ এক...

 9055    2    0 
এবারের ডেঙ্গু কেনো অন্যবারের চেয়ে আলাদা?

published on: 22 Jul, 2019

এবারের ডেঙ্গু কেনো আলাদা?: এবারের ডেঙ্গু জ্বরের সাথে আগের মিল নেই। নতুন কোন শক্তিশালী ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ছড়ানো এই অসুখ এবার ঢাকায় রীতিমতো মহামারি ...

 8726    2    0 

More From Health & Lifestyle

কোন শারীরিক সমস্যায় কোন ডাক্তার? || পর্ব #০১

author: Sadia Tasmia

প্রথমবারের মত ...

 33850    4    0 
আপনি কী শুচিবায়ু রোগে আক্রান্ত?

author: Hasnat Zahan Shapla

অনেক সময়ই আপনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর আবারও গিয়ে চেক  করে আসেন যে আসলেই ব...

 6722    2    0 
কোন সমস্যার জন্য রয়েছে কোন ডাক্তার? | পর্ব ২

author: Sadia Tasmia

প্রথমবারের মত কোনো রোগের

 6429    3    0